Showing posts with label পেটুক পুরাণ. Show all posts
Showing posts with label পেটুক পুরাণ. Show all posts

Tuesday, 5 February 2019

গকুল বাবুর লাউ - গাজরের পায়েস

ছবি - গুগল


সারা বছর যে সময়টার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন গকুল সেনশর্মা  সেই পৌষ পার্বণটাও হুস হুস করে বেড়িয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে দিয়ে। আর এই পৌষ সংক্রান্তির আসল মজা যাকে নিয়ে সেই পিঠে পায়েসটাই তো ভাগল বা! কারণ আর কি পেটে সইছেনা তাই। কথায় বলে পেটে খেলে নাকি পিঠে সয়। সকাল থেকে বাথরুম আর ঘর করতে করতে কথাটা এখন অত্যাচারে এসে ঠেকেছে। তার ওপর ফেসবুকে সবাই যে রেটে পিঠের ছবি লাগাচ্ছে তাতে কেমন যেন একটা হতাশ ভাব ছেঁকে ধরেছে গকুল বাবুকে। নিজের নামটাও মনে করতে ইচ্ছে করছেনা। সেটাও তার নিজের প্রিয় পিঠের নামের একটা কিনা। নামটা রেখে ছিলেন দাদামশাই। তিনি নিজে বড় ভাল বাসতেন পিঠে পায়েস খেতে। আর গকুল পিঠে ছিল তার মধ্যে সব থেকে প্রিয়। আজকের দিনে দাদামশাই বাড়ির কাউকে হেঁসেলে ঢুকতেই দিতেন না। নিজেই সব করতেন নিজের হাতে করে। দাদামশাই লাউ আর গাজর দিয়ে দারুণ এক পায়েস রান্না করতেন। তার পর বাড়ি শুদ্ধ সবাই সেদিন পিঠে দিয়েই ভোজন পর্ব শেষ করত। সেই পিঠে পায়েসের স্বাদ আর গন্ধ এখনও যেন সমস্ত ইন্দ্রিয়ে মাখামাখি হয়ে আছে। রান্নার গুনটি না পেলেও খাওয়ার গুনটা ষোলো আনা বাগে এনেছেন গকুল বাবু। নিজের বাড়িতেও প্রতি বছর পিঠে হয়। ছেলের বউ ফিগার মেইনটেইন করার জন্য মিষ্টি খায়না। সে না খাক এই সব জিনিসে ভাগীদার যত কম হয় তত ভাল। কিন্তু এইবার আসল খাইয়ে লোকের অসুখ বলে পিঠেই নাকি হবে না। উফ ভাবা যায়! আগের দিন হলে এই সব অন্যায় কাজ করার সাহস পেত কেউ। সামান্য প্রতিবাদ করার চেষ্টাও করেছিলেন কিন্তু সেটি বউ আর ছেলের দাপটে উড়ে গেছে। কেবল বউমাই এই বিষয়ে একটু সমর্থন করেছিল। বলেছিল, আজ বাপি নাই বা খেতে পারুক কাল তো আর পেট খারাপ থাকবেনা। তার উত্তরে শাশুড়ির বলেছিল তুমিই না হয় তাহলে পিঠে কর মা! সেই শুনে বেচারি আর কিছু বলার রিস্কটাই নেয়নি। যাইহোক এখন আর ভেবে কি হবে...... আবার সেই একটি বছরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। চোখ বুজে আধশোয়া হয়ে দুঃখের কথা ভাবছিলেন। রাত সাতটা বেজে গেল আজকের দিনটাই শেষ, আর সাথে সাথে পিঠে খাওয়ার আশাও। হঠাৎ করে নাকের কাছে একটা গন্ধ পেলেন। নিশ্চই পাশের বাড়িতে পায়েস বা পিঠে হচ্ছে। কিন্তু গন্ধটা এত কাছ থেকে আসছে যে!! চোখ মেলেই দেখলেন বউমা দাঁড়িয়ে হাতে পায়েসের বাটি। হেসে বললো, বাবা আজ অফিসে আমার এক কলিগ সবার জন্য লাউ গাজরের পায়েস এনেছিল। প্রতিবারই আনে। অন্যবার আমি খাইনা কিন্তু এইবার আমার ভাগেরটা আমি আপনার জন্য নিয়ে এসেছি। মায়ের কাছে শুনলাম দুপুরের পর থেকে আপনার আর তেমন কোন পেটের অসুবিধা হয়নি। তাই এখন খেলে কিচ্ছু হবেনা। আমি ডাক্তার কাকুকেও জিজ্ঞেস করেছি। এইটুকু পায়েসে অসুবিধা হবেনা। আনন্দের চোটে প্রায় অভিভূত হয়ে গেলেন গকুল বাবু। হাতটা বাড়িয়ে বললেন দাও মা!

উপকরণ-                                     সময়- ৪৫ মিনিট
লাউ- কোরানো ২ কাপ
গাজর- কোরানো ১ কাপ
নারকেল- কোরানো ১ কাপ
দুধ-২ লিটার
কনডেন্সড দুধ-১ কৌটা
এলাচ গুঁড়ো-আধ চা চামচ
ঘি-৩ টেবিল চামচ
পেস্তা বাদাম কিশমিশ সাজানোর জন্য- পরিমাণ মত।

প্রণালী-  লাউ আর গাজর ফুটন্ত জলেতে আধ সেদ্ধ করতে হবে। তারপর কাপড়ে চিপে শুকিয়ে নিতে হবে। ঘিয়ে লাউ ও গাজর হাল্কা ভেজে নিতে হবে। এবার ২ লিটার দুধ ঘন করে নিয়ে লাউ ও গাজর নারিকেল দিয়ে ভাল করে নেড়ে নেড়ে ঘন হয়ে এলে এলাচ গুড়ো দিয়ে নামাতে হবে। পেস্তা বাদাম কিশমিশ দিয়ে সাজিয়ে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পরিবেশন করতে হবে।

Saturday, 3 November 2018

কল্যাণীয় বেগুন

কল্যাণীয়

বেগুন,

শুনলাম শীত আসছে বলে তোমার নাকি দর কমছে! শোনার থেকেই মনটা ভাল নেই। এমনটাই হয় জান তো। এমনিতেই তো লোকে তোমাকে “জার নেই গুণ সে হল বেগুন” এই সব বলে সারা বছর নিন্দে-মন্দ করে। তার ওপর এখন হরেক রকমের সবজীরা আসছে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিতে। 


ছবি - গুগল

তা বলে ভেবো না আমিও তোমার এই কষ্টে মজার ফোড়ন কাটছি। আমিও খুব একটা ভাল নেই। ডাক্তাররা তো রান্নায় আমার ব্যবহারই প্রায় নিষেধ করে দিয়েছে। যদিও এখনও সাবেকি মাংসতে আলু না দিলে চলেনা তাই রক্ষে। অথবা রোজকার রান্নাতেও আমি আছি টুকটাক। তাও কি বলি বল, সেই থাকা প্রায় না থাকারই মত। আবার নতুন আলুর সময় হয়ে এলো আমিও বাদের তালিকাতেই আছি তোমারই মত। যাই হোক যে জন্য তোমাকে চিঠি লেখা তা হলো, আমার বাড়ির গিন্নি মাকে প্রায়ই বেগুনের একটা পদ রাঁধতে দেখি। সেটাই আমার সাথে থাকা সবুজ বেগুনের থেকে জেনেছি। পদটি তোমাকে লিখে পাঠালাম। তোমাদের ঘোষ গিন্নিকে বলো সেটা রাঁধতে। আশাকরি তাতে করে তোমার কদর বাড়বে বই কমবেনা।

ছবি - গুগল
আর কি ভাল থেকো। আশীর্বাদ করি যেন তোমার গায়ে পোকা না লাগে। যত পোকা সব যেন ওই শীতের সবজীদের লাগে।

ইতি, 
তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী,
পুরনো আলু।                                                         

সময়: ২০মিনিট 

উপকরণ:                                                                            

বেগুন - ৪টে।
ছোলার ডাল-১০০ গ্রাম।
গোটা ধনে - ২৫ গ্রাম।
হলুদ গুঁড়ো – পরিমাণ মত।
শুকনো লঙ্কা-২/৩ টে।
নুন- স্বাদ মত।
হিংয়ের গুঁড়ো- দরকার মত।
নারকেল কোরা- ১ কাপ।
তেল – মাপ মত।
আমচুর- ২ চামচ।
পেঁয়াজ কলি বা ধনে পাতা- সাজানোর জন্য।
সাদা সুতো- এক হাত।


প্রণালী- ডাল,ধনে ও শুকনো লঙ্কা শুকনো খোলায় ভেজে গুঁড়ো করে নিতে হবে। এবার বেগুনগুলি ভাল করে ধুয়ে বোঁটা সমেত আধা আধি করে চিরে নিতে হবে। একটা পাত্রে গুঁড়ো মশলা সমেত ডাল,নারকেল কোরা,হলুদ,নুন ,আমচুর,হিংয়ের গুড়ো ভাল করে মেখে বেগুন গুলো ফাঁক করে ওর ভেতরে ভরে দুটো পাশ সমান করে সুতো দিয়ে বেঁধে ছাঁকা তেলে ভেজে নিন। তারপর পেঁয়াজ কলি বা ধনে পাতা ছড়িয়ে গরম গরম ভাতের  বা রুটির সাথে পরিবেশন করুন।



Friday, 28 September 2018

চটজলদি হালিম

হালিম


গত শীতটা খাব খাব করেই ফসকে গেছে প্রতাপ বাবুর। তাই অফিস থেকে বেরোতেই যখন স্বয়ং ভগবান দর্শনের মত হালিম ওয়ালার দেখা পেলেন, তখন আগুপিছু কিছু না ভেবেই জাস্ট ঝাঁপিয়ে পড়লেন। তারপর থেকেই শুরু হল বিবেকের তাড়না। অনিমা আর প্রতাপ বাবু দুজনেরই হল খাওয়ার নেশা। বিয়ের সময় বাবার পছন্দ নিয়ে একটু সন্দেহ থাকলেও পরবর্তী ১৮টা বছরে তিনি জেনেছেন গুরুজনের সিধান্ত সর্বদাই সঠিক। সারা বছরের যত ধরনের খাওয়া-দাওয়া হয়ে থাকে তা তারা দুজনে মিলে কিচ্ছু বাদ দেনা না। সুধু গতবারই কাজের চাপে হালিম খেতে জাওয়ার প্ল্যানটা হয়ে ওঠেনি। প্রতাপ বাবু রেড মিট জাতীয় খাওয়ার শীতে খাওয়াই বেশি পছন্দ করেন, তাতে করে হজমের খুব একটা অসুবিধা হয়না আর লোভে পরে একটু বেশি খেলে হাঁসফাঁস করার ও কিছু থাকেনা। তবুও অসময়ে রেড মিট এবং বিগত ১৮বছরের ফুড পার্টনারকে বাদ দেওয়ার মত দু-দুটো কাজ করার অপরাধ বোধটা ক্রমে চেপেই বসছিল। এই সব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতেই চট করে বুদ্ধিটা এসেই গেল। এ সি বাসে বসার জায়গা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মার্ট ফোনের ব্রাউজারে হাউ টু মেক হালিম?  বলে সার্চ করতেই একরাশ অপশন এসে গেল। ব্যাস কাল বাদে পরশু রবিবার। বাজার থেকে মাংস কিনে এনে নিজের হাতে রেঁধে খাওয়াবেন গিন্নীকে। রান্নাটা তিনি মন্দ করেননা। মাঝে একটা দিন বিবেককে তিনি ঠিক সামলে নেবেন।

উপকরণঃ সময় ৩০মিনিট

হাড়ছাড়া মাংস-২৫০ গ্রাম‚ ছোট টুকরো করা দালিয়া(ভাঙ্গা গম)-২০০ গ্রাম, বাটা পোস্ত-২ বড় চামচ, দারচিনি দু'টুকরো‚ লবঙ্গ ৪টি‚ ছোট এলাচ ৪টি , নুন স্বাদ অনুযায়ী, হলুদ গুঁড়ো-১ চা চামচ, লংকা গুঁড়ো-১ চা চামচ, ধনে পাতা‚ পুদিনা কুচোনো-১ বড় চামচ, কুচোনো পেঁয়াজ-২টি, দই-২০০ গ্রাম, রসুন বাটা-১ চা চামচ, আদা বাটা-১ চা চামচ।

প্রণালীঃ হাড়ছাড়া মাংস ছোট টুকরো করে নিন। পোস্তবাটা‚ধনেপাতা ও পুদিনা বাদে সমস্ত মশলা এবং দই দিয়ে মাংস মেখে ৬/৭ ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর মাংস উনানে বসিয়ে তাতে দালিয়া দিন। সব সিদ্ধ হয়ে গেলে বেটে নিন। এবারে পোস্তবাটা দিয়ে ৫/৬ মিনিট রান্না করুন। বাদামী করে ভাজা পেঁয়াজ, লেবুর রস‚ ধনেপাতা ও পুদিনা দিন। হালিম তৈরি।

Friday, 10 August 2018

বানানা লিফে মইশোর ধোসা



মইশোর ধোসা

সোমবার দুপুর
, অ, ত আর প তিন পেটুক মিলে জমিয়ে আড্ডা দিছে। প্রায় বছর খানেক বাদে দেখা ত এর সাথে। গল্পে আড্ডায় সময় বহিয়া গেল স্রোতের প্রায়।  পেট জানান দিচ্ছে রিচাজ করার সময় হয়ে গেছে। মাংস ভাত রেডি আছে বাড়িতে। সর্বনাশ, ত এর মাথায় হাত। সোমবার যে তার নিরামিষ। এখন উপায়! রেডিমেড সমাধান নিরামিষ রেস্টুরেন্ট। অ বলল চল তবে লেক মার্কেটের বানানা লিফে। বানানা লিফ দক্ষিণভারতীয় নিরামিষ খাওয়ারে জন্য বেশ ভাল জায়গা। প আবার দক্ষিণভারতীয় খাবারের দারুন ভক্ত। খাদ্য রসিক অ এর কাছে যদিও মাংস বেটার অপশন। কিন্তু দল ভারি দেখে তাকেও প্রস্তাবে নিমরাজি হতেই হল।

এয়ার কন্ডিশন ছিমছাম রেস্টুরেন্ট। লোক সমাগম দেখে বোঝাই যাছে যে দক্ষিণী খাওয়ারের এক মাত্র তারাই ভক্ত নয়। আতি কষ্টে জায়গা পাওয়া গেল। মেনুকাডের ওপর প একবার চোখ বুলিয়েই রেখে দিল। বোঝা গেল প এর মনোভাব, তোমরা যা খুশিই অর্ডার করো আমার কোনোটাতেই আপত্তি নেই। কি খাই, কি খাই করে ত-এর চোখ পড়ল রকমারি ধোসার লিস্টে। গভীর সমস্যা, এতো রকমের ধোসা! কোনটা ট্রাই করা যেতে পারে। অ বলল মইশোর ধোসা ট্রাই করলে কেমন হয়ে আর সাথে ঠাণ্ডা লস্সি, ভেবেইতো দিল খুশ।

পেটে ততক্ষণে আগুন! অর্ডার দেবার কিছুক্ষণের মধ্যেই কলা পাতায় করে হাজির মুচমুচে মঈশোর ধোসা। গরম গরম ধোসার দিকে তাকিয়ে তএর একটু সংশয় ছিল। কিন্তু মুখে দেওয়ার পরে বোঝা গেল ধোসার ভিতরে মাখানো লাল চাটনিটাই হচ্ছে তুরুপের তাস।
নিরীহ খটমট নামের এক ধোসাও যে পেট ও মনের এই রকম টেককেয়ার করতে পারে তা হয়ত মঈশোর ধোসা না খেলে বোঝা যেতনা। কিন্তু যাবার আগে তিন পেটুক তৈরি তাদের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে। জম্পেশ করে পান মুখে দিয়ে চলল তিনজনের খাওয়ার ও রেস্টুরেন্ট নম্বর দেওয়ার পালা।

বানানা লিফের পরিবেশ- ভাল এবং পরিষ্কার
খাবারের স্বাদ – বেশ ভাল
দাম - একদম ঠিকঠাক
পরিবেষণ – ভাল
আরেক বার আসা যায়? অবশ্যই। বাকি ধোসা গুলো ট্রাই করতে হবে না! আপনি যদি হন নিরামিষাশী অথবা দক্ষিণভারতীয় খাবারের ভক্ত, তাহলে একবার আস্তেই হবে বানানা লিফে।
বানানা লিফের ঠিকানা- ৭৩, রাশ বিহারি অ্যাভেন্যু, গড়িয়াহাট, কলকাতা- ৭০০০২৬
ফোন নাম্বার- ০৩৩-২৪৬৪১৯৬০, ২৪৬৪০৯৪১