Showing posts with label গল্প-অল্প-স্বল্প. Show all posts
Showing posts with label গল্প-অল্প-স্বল্প. Show all posts

Thursday, 6 February 2020

রোজনামচা




একটা স্বার্থপর গাছ একটা স্বার্থপর ফুল ধারণ করে। তার থেকে আবার একটা স্বার্থপর ফল হয়। মাটিতে ঝড়ে পরে সেই ফল। ধিরে ধিরে দিন যায়, মাস যায়, বছর ও বয়ে যায়। মটি থেকে চারাগাছ মাথা তুলে ধরে । গল্পের শুরুতেই যে স্বার্থহীন  মানুষটার কথা বলা হয়নি। আদপে যে এই গল্পের আসল কান্ডারী,  রোজ নিয়ম করে সে গাছে জল দেয়। সার মাটি তৈরী রাখে। কীটনাশক ছড়ায়। স্বার্থপর চারাগাছ মহিরুহ হয়ে ওঠে।  দিকে দিকে অজস্র গাছ গজিয়ে এক স্বার্থপর গাছের বন সৃষ্টি করে ফেলে।
আর অন্যদিকে সেই স্বার্থহীন লোকটা বিশাল বন দেখে খুশি হয়। নিজের মনে মনেই যুদ্ধে কখনও বা জেতে। বা হেরে ভুত হয়ে যায়। এক দঙ্গল স্বার্থপর গাছের ছায়ায় বসে শান্তির নিঃশ্বাস নেয়। কমলালেবুর খোশা ছাড়িয়ে সুখ পায়। স্বার্থপরতার গন্ধ পেলেও চোখ বুজে থাকে। মাথাকে বোঝায় এইতো বেশ আছি।  অন্য কিছু করলে যদি এই টুকুটাও আর না থাকে। একা থাকার দায় বড়ই দায়। যে থাকে সেই শুধু বোঝে। কমলালেবুর খোসা ছাড়িয়ে একটা কোয়া মুখে ফেলে। বাহঃ বেশ মিস্টি। এলগাল থেকে অন্য গালে চালান করে। তরতরিয়ে গাছেরা ছড়িয়ে পরে। যে তাদের বাড় বাড়ন্ত আটকাতে পারত,  সে এখন সুখ স্বপ্ন দেখছে। স্বমূলে উপড়ে ফেলার সাহস তার নেই তারা সেটা জানে।

Tuesday, 4 February 2020

বইমেলা ২০২০

কিছু বই ছিড়ে কুটিকুটি তাই নতুন করে কিনতে হল। কিছু পড়া আগেই,  তবু মন ভালো করার জন্য কেনা। আর কয়েকটি নতুন বটে। এই শেষ আমি আর একটাও বই কিনবো না। রাখার জায়গার আভাব 😕


Thursday, 7 February 2019

নিজের বাড়ি

ছবি-ধার করা অবশ্যই।কিন্তু কার থেকে মনে পড়ছে না। 


মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে হয়। তোর আর আমার ও যদি একটা নিজের বাড়ি হয়। এত্ত বড় না হলেও চলবে। নিজেদের বলার মত একটা বাড়ি। ভাবতে বেশ লাগে। সবকটা ঘর, রোদ উপচে পরা বারান্দা দেখে দেখে মন শান্ত হবে। মন চাইলেই জানলা খুলে দিতে পারব। হুড়মুড় করে ধুলো ভরা হাওয়া এসে ঢুকবে আমাদের ঘরে। আবার ইচ্ছা হলেই দড়াম করে বন্ধ করে দেব সব দরজা-জানলা। কি হল কি হল বলে কেউ ভুরি ভুরি প্রশ্ন তুলবে না। মন চাইলেই সাজাব যতনে ঘরের আনাচ -কানাচ। আবার ইচ্ছা না হলেই অবহেলায় ফেলে রাখব সব কিছু। ধুলোর পাহাড় জমে উঠবে চেয়ার টেবিল, বই গুলোতে।

আলমারির  সাজানো বই আলতুসে আলোয় ডুবে থাকবে। আলনা জুড়ে কাপড়-চোপড়, ফুলদানীতে শুকনো ফুল, ফুঁড়িয়ে যাওয়া সাজের জিনিষ অগোছালো সবটা তোর আর আমার। সেই ছোট বেলার দিন গুলোর মতই দেওয়াল ভরিয়ে দেব সাপ ব্যাঙ কাকের ঠ্যাং আঁকাতে। বকা খাওয়ার মার খাওয়ার এক রত্তি ভয় থাকবে না। রঙে হাত চুবিয়ে যা খুশি তাই হবে লাল নীল দেয়ালা। বাকি পরে থাকা রঙে না হয় নিজেদের রাঙিয়ে নেব।


আইনি কাগজে তোর আর আমার নাম থাকবে ভাগাভাগি করে। তোর পুরটাও আমার, আর আমার সবটাও তোর। হারিয়ে গিয়েও যার টানে ফিরে আসা যায়। টুকরো টুকরো ভেঙে ছড়িয়ে যেতে দেয়না যে। পাশাপাশি সময় গুলো বয়ে যাবে ঝড়ের মত। আমরা না থাকলেও আমাদের গল্প শোনাবে যে বাড়ি। সত্যি বলছি ভীষণ রকম লোভ হয় এমন একটা বাড়ির জন্য।

Tuesday, 5 February 2019

গকুল বাবুর লাউ - গাজরের পায়েস

ছবি - গুগল


সারা বছর যে সময়টার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন গকুল সেনশর্মা  সেই পৌষ পার্বণটাও হুস হুস করে বেড়িয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে দিয়ে। আর এই পৌষ সংক্রান্তির আসল মজা যাকে নিয়ে সেই পিঠে পায়েসটাই তো ভাগল বা! কারণ আর কি পেটে সইছেনা তাই। কথায় বলে পেটে খেলে নাকি পিঠে সয়। সকাল থেকে বাথরুম আর ঘর করতে করতে কথাটা এখন অত্যাচারে এসে ঠেকেছে। তার ওপর ফেসবুকে সবাই যে রেটে পিঠের ছবি লাগাচ্ছে তাতে কেমন যেন একটা হতাশ ভাব ছেঁকে ধরেছে গকুল বাবুকে। নিজের নামটাও মনে করতে ইচ্ছে করছেনা। সেটাও তার নিজের প্রিয় পিঠের নামের একটা কিনা। নামটা রেখে ছিলেন দাদামশাই। তিনি নিজে বড় ভাল বাসতেন পিঠে পায়েস খেতে। আর গকুল পিঠে ছিল তার মধ্যে সব থেকে প্রিয়। আজকের দিনে দাদামশাই বাড়ির কাউকে হেঁসেলে ঢুকতেই দিতেন না। নিজেই সব করতেন নিজের হাতে করে। দাদামশাই লাউ আর গাজর দিয়ে দারুণ এক পায়েস রান্না করতেন। তার পর বাড়ি শুদ্ধ সবাই সেদিন পিঠে দিয়েই ভোজন পর্ব শেষ করত। সেই পিঠে পায়েসের স্বাদ আর গন্ধ এখনও যেন সমস্ত ইন্দ্রিয়ে মাখামাখি হয়ে আছে। রান্নার গুনটি না পেলেও খাওয়ার গুনটা ষোলো আনা বাগে এনেছেন গকুল বাবু। নিজের বাড়িতেও প্রতি বছর পিঠে হয়। ছেলের বউ ফিগার মেইনটেইন করার জন্য মিষ্টি খায়না। সে না খাক এই সব জিনিসে ভাগীদার যত কম হয় তত ভাল। কিন্তু এইবার আসল খাইয়ে লোকের অসুখ বলে পিঠেই নাকি হবে না। উফ ভাবা যায়! আগের দিন হলে এই সব অন্যায় কাজ করার সাহস পেত কেউ। সামান্য প্রতিবাদ করার চেষ্টাও করেছিলেন কিন্তু সেটি বউ আর ছেলের দাপটে উড়ে গেছে। কেবল বউমাই এই বিষয়ে একটু সমর্থন করেছিল। বলেছিল, আজ বাপি নাই বা খেতে পারুক কাল তো আর পেট খারাপ থাকবেনা। তার উত্তরে শাশুড়ির বলেছিল তুমিই না হয় তাহলে পিঠে কর মা! সেই শুনে বেচারি আর কিছু বলার রিস্কটাই নেয়নি। যাইহোক এখন আর ভেবে কি হবে...... আবার সেই একটি বছরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। চোখ বুজে আধশোয়া হয়ে দুঃখের কথা ভাবছিলেন। রাত সাতটা বেজে গেল আজকের দিনটাই শেষ, আর সাথে সাথে পিঠে খাওয়ার আশাও। হঠাৎ করে নাকের কাছে একটা গন্ধ পেলেন। নিশ্চই পাশের বাড়িতে পায়েস বা পিঠে হচ্ছে। কিন্তু গন্ধটা এত কাছ থেকে আসছে যে!! চোখ মেলেই দেখলেন বউমা দাঁড়িয়ে হাতে পায়েসের বাটি। হেসে বললো, বাবা আজ অফিসে আমার এক কলিগ সবার জন্য লাউ গাজরের পায়েস এনেছিল। প্রতিবারই আনে। অন্যবার আমি খাইনা কিন্তু এইবার আমার ভাগেরটা আমি আপনার জন্য নিয়ে এসেছি। মায়ের কাছে শুনলাম দুপুরের পর থেকে আপনার আর তেমন কোন পেটের অসুবিধা হয়নি। তাই এখন খেলে কিচ্ছু হবেনা। আমি ডাক্তার কাকুকেও জিজ্ঞেস করেছি। এইটুকু পায়েসে অসুবিধা হবেনা। আনন্দের চোটে প্রায় অভিভূত হয়ে গেলেন গকুল বাবু। হাতটা বাড়িয়ে বললেন দাও মা!

উপকরণ-                                     সময়- ৪৫ মিনিট
লাউ- কোরানো ২ কাপ
গাজর- কোরানো ১ কাপ
নারকেল- কোরানো ১ কাপ
দুধ-২ লিটার
কনডেন্সড দুধ-১ কৌটা
এলাচ গুঁড়ো-আধ চা চামচ
ঘি-৩ টেবিল চামচ
পেস্তা বাদাম কিশমিশ সাজানোর জন্য- পরিমাণ মত।

প্রণালী-  লাউ আর গাজর ফুটন্ত জলেতে আধ সেদ্ধ করতে হবে। তারপর কাপড়ে চিপে শুকিয়ে নিতে হবে। ঘিয়ে লাউ ও গাজর হাল্কা ভেজে নিতে হবে। এবার ২ লিটার দুধ ঘন করে নিয়ে লাউ ও গাজর নারিকেল দিয়ে ভাল করে নেড়ে নেড়ে ঘন হয়ে এলে এলাচ গুড়ো দিয়ে নামাতে হবে। পেস্তা বাদাম কিশমিশ দিয়ে সাজিয়ে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পরিবেশন করতে হবে।

Saturday, 19 January 2019

অলি ও শীত দুপুর





অলির শীতের এই আলসেমি ভরা দুপুর গুলো দারুণ প্রিয়। কিছু করার নেই কিচ্ছুটি বলার নেই। খালি অনন্ত অফুরান সময় মেখে থাকে মনে। মা চলে গিয়ে অলির এখন আরও আরও বেশি অবসর। দেরিতে সে বরাবরই ঘুম থেকে ওঠে।  এখনও তাই করে। মা চলে যাওয়ার পর পর কিছু দিন তাড়াতাড়ি উঠত ঘুম থেকে। তাতে হিতে বিপরীত হল। অস্থিরতা বেড়েই গেল। কি লাভ হুট করে নিজেকে বদলে ফেলে! এইতো বেশ মজার জীবন। সময় যত খুশী তাড়া লাগাক অলির কোনোভাবেই গরজ নেই।  একা নিশ্চুপ নির্বিকার।  সময় যখন জোরসে তার মাথায় কিল কষায়।  সে সাতপাঁচ ভাবে। সময়কে নিজের চিন্তা দিয়ে হার মানায়। করলেও তো অনেক কিছুই করা যায়। লাভটা কি। দিনগত পাপ ক্ষয়। বাবা যতদিন আছেন।  তার পরে অলি একা।  আসলে অলি জন্ম থেকেই একা। আসলে সব্বাই একা। তাও একা থাকার ভয় আঁকড়ে ধরে, কামড় বসায় মেরুদণ্ডে। এই যে ছাদ ভর্তি মায়ের লাগানো ফুলগাছ গুলো কমে আসছে এক এক করে। একদিন সারা ছাদ ফাঁকা হয়ে যাবে। বাবা রোজকার পুজোর আগে গাছকে খেতে দিয়ে তার পরেই ঠাকুরকে খাওয়ায়। অলির বেশ মজা লাগে। ছোট্ট ছোট্ট মূর্তি গুলোর কত্তো তোয়াজ। সেও পরের জন্মে মূর্তি হবে সোহাগ পাবে। সোহাগ পেতে কারই বা খারাপ লাগে। সব আজগুবি ভাবনাতে ভরা অলির দুপুর গুলো। ফুরোয় না, শেষ হয় না, হারায় না, পালায় না একলা ফেলে। গা ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকে, অলি ওম পায় তাদের। ভাবনারা বাবার গলা নকল করে অলিকে ডাক দেয়। ওঠ ওঠ সন্ধ্যা হল। বারান্দার আলোটা দিয়ে দে। অলি উঠে পরে আলসেমি রেখে পাশে। শীতের দুপুর, আলসেমি ভরা হিজিবিজবিজ গুলো গুছিয়ে রেখে দেয় আবার কালকের জন্য। আর মনে মনে মুচকি হাসে সময়ের কথা ভেবে। সময় পৌঁছানোর আগেই তার সব দেখা হয়ে যায় প্রতি বারে। চিন্তা ও সময়ের দৌড়ে সময় কে বার বার সে দুয়ো দেয়। সময় সেটা বোঝারও অনেক আগে।

Friday, 21 December 2018

পরচুল


বিগত ছয় মাস বেশ ভালোই কাটছে পলাশের।  সাত বছরের বিবাহিত একঘেয়ে ঘ্যানঘ্যানে জীবন নয়, এখনটা বেশ অন্যরকম। পৃথাও এখন বেশ অনেকটা অন্য রকম। আগের মত এটা কেন করছো না, সেটা কেন করছো না বলে মাথা খায় না। পলাশ চাকরি ছেড়েছে সেও প্রায় ছয় মাস হল। তারপর থেকেই সব বদলে গেছে। পৃথাকে এখন অনেকটাই সময় দিতে পারে।  নিজের স্বপ্ন পূরণের পথেও এখন চাকরি নামক কাঁটা খোঁচা দেয় না। তাই ভোর থাকতেই ক্যামেরা কাঁধে বেড়িয়ে পরে। এদিক সেদিক ঘুরে মনের মত সব বিষয় লেন্সে বন্দি করার চেষ্টা করে। রোজই যে সফল হয় তাও নয়। তবে মাঝে মধ্যে দারুণ সব মুহূর্তরা ধরা দেয়। খারাপ ভালো যাই ছবি সে তুলুক না কেন পৃথাকে সবটা দেখায়। পৃথাও সবটা অপলক দৃষ্টি দিয়ে দেখে। পলাশের উৎসাহ দ্বিগুণ হয়।

বাড়ির কাজেও পলাশ একহাতেই সামাল দিচ্ছে। দুটো মাত্র প্রাণী তারা, কি আছে এটুকু করতে। সকালের জলখাবার একসাথেই খায় দুজনে। পলাশের মনটা হালকা হয়ে যায়। কত্তদিন বাদে তারা নিজেদের মনের মত করে সময় কাটাচ্ছে। সেই বিয়ের প্রথম কিছুই দিন তারা এমনটা করে কাছাকাছি এসেছে। এতকিছু ভালোলাগার মধ্যে খালি একটা জিনিস পলাশের খচ খচ করে। আজ সেটারও সমাধান পেয়েছে। নিউমার্কেটের বেশ কিছু দোকান ঘুরে অবশেষে পেয়েছে। দাম একটু বেশি হলেও কিচ্ছু করার ছিলনা। জিনিসটা একদম মন মত।
লাইটটা জ্বালিয়ে ঘরে ঢুকলো পলাশ, পৃথাকে আজ চমকে দেবে। পিছন থেকে জাপটে ধরে পরচুলটা পড়িয়ে দিল পৃথার মাথায়।

-দেখ দেখ দারুণ হয়েছে না। পুরো তোমার চুলের সঙ্গে রঙ মিলিয়ে কিন্তু। তোমাকে দারুণ মানাবে। আর তোমার কপালের সিঁথির পাশের ক্ষতটা ঢেকে দেবে। কি গো কিছু বলনা!! ভালো লাগেনি? এই এক ঝামেলা হয়েছে। আজ ছয় মাস তুমি একটাও কথা বলো নি আমার সাথে, সে খেয়াল আছে। কি গো? আচ্ছা সেদিন না হয় একটু বেশি রেগে গেছিলাম। তাইতো তোমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলেছি। আমিতো একটু বদরাগী আছি সেই বিয়ের আগে থেকেই। তুমি তো সব বোঝো। কি গো!! ওই!!! ধুর!!! ভাল্লাগে না। আচ্ছা তুমি থাকো তোমার রাগ নিয়ে, আমি চললাম রান্না ঘরে। রান্না সেরে এসে আজ কি কি ছবি পেলাম দেখাচ্ছি। আজ ময়দানে একটা দারুণ ছবি পেয়েছি। তোমাকে দেখাচ্ছি পরে, বোলো কেমন হয়েছে।

পলাশ রান্না ঘরের দিকে চলে গেল হিম ঘরের দরজা ভেজিয়ে। পৃথার দেহটা বসে আছে চুপচাপ, পলাশের আনা পরচুলটা মাথায় নিয়ে।