Showing posts with label অ্যান্টেনা. Show all posts
Showing posts with label অ্যান্টেনা. Show all posts

Thursday, 7 February 2019

নিজের বাড়ি

ছবি-ধার করা অবশ্যই।কিন্তু কার থেকে মনে পড়ছে না। 


মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে হয়। তোর আর আমার ও যদি একটা নিজের বাড়ি হয়। এত্ত বড় না হলেও চলবে। নিজেদের বলার মত একটা বাড়ি। ভাবতে বেশ লাগে। সবকটা ঘর, রোদ উপচে পরা বারান্দা দেখে দেখে মন শান্ত হবে। মন চাইলেই জানলা খুলে দিতে পারব। হুড়মুড় করে ধুলো ভরা হাওয়া এসে ঢুকবে আমাদের ঘরে। আবার ইচ্ছা হলেই দড়াম করে বন্ধ করে দেব সব দরজা-জানলা। কি হল কি হল বলে কেউ ভুরি ভুরি প্রশ্ন তুলবে না। মন চাইলেই সাজাব যতনে ঘরের আনাচ -কানাচ। আবার ইচ্ছা না হলেই অবহেলায় ফেলে রাখব সব কিছু। ধুলোর পাহাড় জমে উঠবে চেয়ার টেবিল, বই গুলোতে।

আলমারির  সাজানো বই আলতুসে আলোয় ডুবে থাকবে। আলনা জুড়ে কাপড়-চোপড়, ফুলদানীতে শুকনো ফুল, ফুঁড়িয়ে যাওয়া সাজের জিনিষ অগোছালো সবটা তোর আর আমার। সেই ছোট বেলার দিন গুলোর মতই দেওয়াল ভরিয়ে দেব সাপ ব্যাঙ কাকের ঠ্যাং আঁকাতে। বকা খাওয়ার মার খাওয়ার এক রত্তি ভয় থাকবে না। রঙে হাত চুবিয়ে যা খুশি তাই হবে লাল নীল দেয়ালা। বাকি পরে থাকা রঙে না হয় নিজেদের রাঙিয়ে নেব।


আইনি কাগজে তোর আর আমার নাম থাকবে ভাগাভাগি করে। তোর পুরটাও আমার, আর আমার সবটাও তোর। হারিয়ে গিয়েও যার টানে ফিরে আসা যায়। টুকরো টুকরো ভেঙে ছড়িয়ে যেতে দেয়না যে। পাশাপাশি সময় গুলো বয়ে যাবে ঝড়ের মত। আমরা না থাকলেও আমাদের গল্প শোনাবে যে বাড়ি। সত্যি বলছি ভীষণ রকম লোভ হয় এমন একটা বাড়ির জন্য।

Tuesday, 5 February 2019

গকুল বাবুর লাউ - গাজরের পায়েস

ছবি - গুগল


সারা বছর যে সময়টার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন গকুল সেনশর্মা  সেই পৌষ পার্বণটাও হুস হুস করে বেড়িয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে দিয়ে। আর এই পৌষ সংক্রান্তির আসল মজা যাকে নিয়ে সেই পিঠে পায়েসটাই তো ভাগল বা! কারণ আর কি পেটে সইছেনা তাই। কথায় বলে পেটে খেলে নাকি পিঠে সয়। সকাল থেকে বাথরুম আর ঘর করতে করতে কথাটা এখন অত্যাচারে এসে ঠেকেছে। তার ওপর ফেসবুকে সবাই যে রেটে পিঠের ছবি লাগাচ্ছে তাতে কেমন যেন একটা হতাশ ভাব ছেঁকে ধরেছে গকুল বাবুকে। নিজের নামটাও মনে করতে ইচ্ছে করছেনা। সেটাও তার নিজের প্রিয় পিঠের নামের একটা কিনা। নামটা রেখে ছিলেন দাদামশাই। তিনি নিজে বড় ভাল বাসতেন পিঠে পায়েস খেতে। আর গকুল পিঠে ছিল তার মধ্যে সব থেকে প্রিয়। আজকের দিনে দাদামশাই বাড়ির কাউকে হেঁসেলে ঢুকতেই দিতেন না। নিজেই সব করতেন নিজের হাতে করে। দাদামশাই লাউ আর গাজর দিয়ে দারুণ এক পায়েস রান্না করতেন। তার পর বাড়ি শুদ্ধ সবাই সেদিন পিঠে দিয়েই ভোজন পর্ব শেষ করত। সেই পিঠে পায়েসের স্বাদ আর গন্ধ এখনও যেন সমস্ত ইন্দ্রিয়ে মাখামাখি হয়ে আছে। রান্নার গুনটি না পেলেও খাওয়ার গুনটা ষোলো আনা বাগে এনেছেন গকুল বাবু। নিজের বাড়িতেও প্রতি বছর পিঠে হয়। ছেলের বউ ফিগার মেইনটেইন করার জন্য মিষ্টি খায়না। সে না খাক এই সব জিনিসে ভাগীদার যত কম হয় তত ভাল। কিন্তু এইবার আসল খাইয়ে লোকের অসুখ বলে পিঠেই নাকি হবে না। উফ ভাবা যায়! আগের দিন হলে এই সব অন্যায় কাজ করার সাহস পেত কেউ। সামান্য প্রতিবাদ করার চেষ্টাও করেছিলেন কিন্তু সেটি বউ আর ছেলের দাপটে উড়ে গেছে। কেবল বউমাই এই বিষয়ে একটু সমর্থন করেছিল। বলেছিল, আজ বাপি নাই বা খেতে পারুক কাল তো আর পেট খারাপ থাকবেনা। তার উত্তরে শাশুড়ির বলেছিল তুমিই না হয় তাহলে পিঠে কর মা! সেই শুনে বেচারি আর কিছু বলার রিস্কটাই নেয়নি। যাইহোক এখন আর ভেবে কি হবে...... আবার সেই একটি বছরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। চোখ বুজে আধশোয়া হয়ে দুঃখের কথা ভাবছিলেন। রাত সাতটা বেজে গেল আজকের দিনটাই শেষ, আর সাথে সাথে পিঠে খাওয়ার আশাও। হঠাৎ করে নাকের কাছে একটা গন্ধ পেলেন। নিশ্চই পাশের বাড়িতে পায়েস বা পিঠে হচ্ছে। কিন্তু গন্ধটা এত কাছ থেকে আসছে যে!! চোখ মেলেই দেখলেন বউমা দাঁড়িয়ে হাতে পায়েসের বাটি। হেসে বললো, বাবা আজ অফিসে আমার এক কলিগ সবার জন্য লাউ গাজরের পায়েস এনেছিল। প্রতিবারই আনে। অন্যবার আমি খাইনা কিন্তু এইবার আমার ভাগেরটা আমি আপনার জন্য নিয়ে এসেছি। মায়ের কাছে শুনলাম দুপুরের পর থেকে আপনার আর তেমন কোন পেটের অসুবিধা হয়নি। তাই এখন খেলে কিচ্ছু হবেনা। আমি ডাক্তার কাকুকেও জিজ্ঞেস করেছি। এইটুকু পায়েসে অসুবিধা হবেনা। আনন্দের চোটে প্রায় অভিভূত হয়ে গেলেন গকুল বাবু। হাতটা বাড়িয়ে বললেন দাও মা!

উপকরণ-                                     সময়- ৪৫ মিনিট
লাউ- কোরানো ২ কাপ
গাজর- কোরানো ১ কাপ
নারকেল- কোরানো ১ কাপ
দুধ-২ লিটার
কনডেন্সড দুধ-১ কৌটা
এলাচ গুঁড়ো-আধ চা চামচ
ঘি-৩ টেবিল চামচ
পেস্তা বাদাম কিশমিশ সাজানোর জন্য- পরিমাণ মত।

প্রণালী-  লাউ আর গাজর ফুটন্ত জলেতে আধ সেদ্ধ করতে হবে। তারপর কাপড়ে চিপে শুকিয়ে নিতে হবে। ঘিয়ে লাউ ও গাজর হাল্কা ভেজে নিতে হবে। এবার ২ লিটার দুধ ঘন করে নিয়ে লাউ ও গাজর নারিকেল দিয়ে ভাল করে নেড়ে নেড়ে ঘন হয়ে এলে এলাচ গুড়ো দিয়ে নামাতে হবে। পেস্তা বাদাম কিশমিশ দিয়ে সাজিয়ে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পরিবেশন করতে হবে।

Saturday, 19 January 2019

অলি ও শীত দুপুর





অলির শীতের এই আলসেমি ভরা দুপুর গুলো দারুণ প্রিয়। কিছু করার নেই কিচ্ছুটি বলার নেই। খালি অনন্ত অফুরান সময় মেখে থাকে মনে। মা চলে গিয়ে অলির এখন আরও আরও বেশি অবসর। দেরিতে সে বরাবরই ঘুম থেকে ওঠে।  এখনও তাই করে। মা চলে যাওয়ার পর পর কিছু দিন তাড়াতাড়ি উঠত ঘুম থেকে। তাতে হিতে বিপরীত হল। অস্থিরতা বেড়েই গেল। কি লাভ হুট করে নিজেকে বদলে ফেলে! এইতো বেশ মজার জীবন। সময় যত খুশী তাড়া লাগাক অলির কোনোভাবেই গরজ নেই।  একা নিশ্চুপ নির্বিকার।  সময় যখন জোরসে তার মাথায় কিল কষায়।  সে সাতপাঁচ ভাবে। সময়কে নিজের চিন্তা দিয়ে হার মানায়। করলেও তো অনেক কিছুই করা যায়। লাভটা কি। দিনগত পাপ ক্ষয়। বাবা যতদিন আছেন।  তার পরে অলি একা।  আসলে অলি জন্ম থেকেই একা। আসলে সব্বাই একা। তাও একা থাকার ভয় আঁকড়ে ধরে, কামড় বসায় মেরুদণ্ডে। এই যে ছাদ ভর্তি মায়ের লাগানো ফুলগাছ গুলো কমে আসছে এক এক করে। একদিন সারা ছাদ ফাঁকা হয়ে যাবে। বাবা রোজকার পুজোর আগে গাছকে খেতে দিয়ে তার পরেই ঠাকুরকে খাওয়ায়। অলির বেশ মজা লাগে। ছোট্ট ছোট্ট মূর্তি গুলোর কত্তো তোয়াজ। সেও পরের জন্মে মূর্তি হবে সোহাগ পাবে। সোহাগ পেতে কারই বা খারাপ লাগে। সব আজগুবি ভাবনাতে ভরা অলির দুপুর গুলো। ফুরোয় না, শেষ হয় না, হারায় না, পালায় না একলা ফেলে। গা ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকে, অলি ওম পায় তাদের। ভাবনারা বাবার গলা নকল করে অলিকে ডাক দেয়। ওঠ ওঠ সন্ধ্যা হল। বারান্দার আলোটা দিয়ে দে। অলি উঠে পরে আলসেমি রেখে পাশে। শীতের দুপুর, আলসেমি ভরা হিজিবিজবিজ গুলো গুছিয়ে রেখে দেয় আবার কালকের জন্য। আর মনে মনে মুচকি হাসে সময়ের কথা ভেবে। সময় পৌঁছানোর আগেই তার সব দেখা হয়ে যায় প্রতি বারে। চিন্তা ও সময়ের দৌড়ে সময় কে বার বার সে দুয়ো দেয়। সময় সেটা বোঝারও অনেক আগে।

Saturday, 3 November 2018

Rare Breed


মাঝে মাঝে পরিচিতরা আমাকে 'rare breed' বলে মজা করেন। আমি কিন্তু ভয়ে ভয়ে থাকি!! জানাজানি হয়ে গেলে আমারও নখ, দাঁত, চুল, চামড়া নিয়ে টানাটানি পড়বে। তখন আমিও ব্যাবসায়িক মহলে লোভনীয় হয়ে উঠবো। একে তো মেয়ে তার ওপর 'rare breed' তকমা। শেষে কোন দিন দেখা যাবে কারোর পাতে,  কারোর খাটের শৌখিনতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তাগিদেই বলী হয়ে গেছি অজান্তে। যেমনটা আকছার হয়েই থাকে।



Wednesday, 12 September 2018

আমি জানলা দিয়ে দেখলাম

বহু ছোট বেলার আঁকা ও লেখা 



আঘাত খাওয়া পাখীর মত মেয়েটা মূর্ছা যাচ্ছিল রাস্তায়
আমি জানলা দিয়ে দেখলাম।
কাল রাত্রে একটা স্বপ্ন দেখলাম লাল রঙ এর
যা ছিল বিশুদ্ধ সবুজ গন্ধে পূর্ণ।

দুধ ঢালা বিছানায় আবার স্নান সেরে ঘুম,
এবার স্বপ্ন হলুদ রং এর।
বাইরে ছাই রঙা রাতের চলমান নিস্তব্ধতা,
জেগে আছি, আমি জানলা দিয়ে দেখলাম।

আবার মেয়েটি রাস্তায় পড়ে,
বিড়ালটা পাঁচিলে হাত চাটছে, সুস্বাদু খাবার।
আমার আর বিড়ালটার প্রতীক্ষা একসঙ্গে,

আমি জানলা দিয়ে দেখলাম।


Tuesday, 21 August 2018

আদর

ছোট বেলায় করা একটা আঁকা মাথায় রেখে লেখাটা



জোনাকির আলোয় বৃষ্টি নেমেছে ঘাসের ছায়ায়
তাই গল্পরাও লাল ছোপ ফেলে আমার জামায়।
ডেকে নিয়ে যায় চিলে কোঠার ঘরে
গল্প আমার ঠোঁট কামড়ে আদর করে। 

Monday, 13 August 2018

মুক্তি

ছবি - গুগল



শাওয়ারের তলায় দাঁড়িয়ে তোরা। দশ বছরের শারীরিক মানসিক আঘাতকে ধুয়ে যেতে দেখল। আনিশের রক্তের গন্ধকে ছাপিয়ে নতুন একটা গন্ধ পাচ্ছিল সে। এইটাই হয়ত স্বাধীনতার গন্ধ।

Tuesday, 7 August 2018

কদমফুল


ছবি- গুগল

কি করে জানি গোলাপ ও বাকি সব নাম করা ফুলেদের বদলে শহরে কদম এর চাহিদা বেড়ে গেল। মৈনাক ও কিনেছে দুটো। শ্রাবস্তি কদম ভালবাসে খুব। মৈনাক বুঝে পায়না কি আছে এই ফুলটাতে। জিজ্ঞাসা করলে বলে, আমার কালাচাঁদতো কদমই ভালবাসে। কদম এর তলায় বসে বাঁশি বাজায়। কদমের তালাতেই সক্কলকে প্রেম বিলায়। মৈনাক মানতে পারেনা এই সব অসাড় যুক্তি। বোকা বোকা লাগে। শ্রাবস্তি হেঁসে বলে বুঝবি সেদিন যেদিন তুইও আমাকে আপন করবি। তখন আমার ভালোলাগাটাও তোর ভালোলাগা হয়ে যাবে।

দীর্ঘ লাইনটা চলছে এঁকে বেঁকে। সমস্ত চত্তর জুড়ে লোকের ভিড়। কলমের খোঁচায় যে নাড়িয়ে দিল মসনদ। তাকে শেষ বারের মত দেখে নিতেই হবে। আতর সুগন্ধির ছাড়াছাড়ি শবদেহ ঘিরে। নির্বোধদের ঘুম ভাঙ্গানোর শ্রেষ্ঠ উপহার মৃত্যু।

মৈনাক ভিড়ের মধ্যে মিশে গেল। বৃষ্টিতে ধুয়ে যাচ্ছে নোংরা শহরটা। একটু একটু করে এগোচ্ছে সকলে। যদি নূন্যতম সুযোগও থাকত তবে শ্রাবস্তি আসত তার কাছে। ভিজতে পছন্দ করে পাগল মেয়েটা। আর বোধ হয় একটু খানি। এইতো পৌঁছে গেছে মৈনাক। বাকি সব গন্ধকে ছাপিয়ে বোকা মেয়েটার গায়ের পরিচিত নোনতা গন্ধ পেল সে।

বেশি সময় নেই হাতে। সেতো শুধু একা নয়। বাকিরাও আছে। ঝটপট গুঁজে দিল একটা কদমফুল শ্রাবস্তির হাতে। অন্যটি বুকে চেপে বেড়িয়ে এল। শ্রাবস্তি কদম ভালবাসেতো খুব, আজ মৈনাক ও কদম ভালবাসা।  

Saturday, 11 November 2017

গন্ধ


এক নাগাড়ে কথা গুলো বলে যাচ্ছিলেন অপর্ণা। যদিও জানেন তাতে কিচ্ছু হবেনা, একটা কথাও শুনবে না মেয়েটা। তাও তাও তিনি বলে যাচ্ছিলেন। এত সজাগ থাকা সত্ত্বেও মেয়ে পছন্দ করল কিনা একটা আধ পাগলা ছেলেকে। চালচুলো হীন এক মুখ দাঁড়ি নিয়ে বড় বড় চোখ করে সারাক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে কি সব আবোলতাবোল ভাবে। এখনকার যুগেও ঝাণ্ডা কাঁধে নিয়ে দেশ উদ্ধারের স্বপ্ন দেখে যে, তাকে পাগল বলে কি ভুল করেছেন তিনি!

কত বয়স ছিল তখন ছাব্বিশ কি সাতাশ হবে, বাড়ির অমতে যে মানুষটার হাত ধরে বেড়িয়ে এসেছিলেন তিনি কই তার তো একটুও সময় লাগলো না পাশ থেকে সরে যেতে। নিজেই বাবা মা উভয় ভূমিকা পালন করেছেন যথাসাধ্য। এর পড়েও নিজে যে ভুল করেছিলেন সেটা কখনোই পূজার সাথে হতে দিতে পারেন না। সেই আত্মভোলা চাহুনি, সেই দুনিয়া বদলে দেওয়ার মত জিদ, আবার একটা নিরুদ্দেশ, আবার একটা অপর্ণা সৃষ্টি হওয়ার আগেই সম্ভাবনার গলাটিপতেই হবে।

চিৎকার করতে করতে ক্রমশ উত্তেজিত হয়ে উঠলেন অপর্ণা। কেন তুই ওই ছেলেটার সাথেই থাকতে চাস? আজ তোকে উত্তর দিতেই হবে। মার কথার একটাও উত্তর না দিয়ে চুপ করে মুখ বুজে বসেছিল সে। আর এই অবাধ্যতা নিতে পারলেন না অপর্ণা। সমস্ত শালীনতা সংযমের বাঁধ ভেঙ্গে চুলের মুঠি ধরে ফেলে দিলেন পূজাকে। জীবনে প্রথম মায়ের এমন ব্যাবহারে থতমত খেয়ে গেল পূজা। মুখ ঢেকে সবটা পিঠ পেতে নিলো। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চড়ের পর চড় মারতে থাকলেন অপর্ণা। অতিরিক্ত উত্তেজনা আর নিতে না পেরে বসে পড়লেন মাটিতে। তবুও জিজ্ঞাস করে যাচ্ছিলেন কিসের জন্য পূজা এই ছেলেটার সাথেই থাকতে চায়। ধীরে ধীরে মুখ থেকে হাত সরিয়ে ক্লান্ত মায়ের কাছ ঘেঁসে এলো পূজা। তারপর মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, আমি যে অর্ক-র গায়ে বাবার গন্ধ পাই মা। বাবার আমার কাছে না থাকার অভাবকে পূরণ করে সেই গন্ধ। বিশ্বাস কর অবিকল বাবার গায়ের গন্ধ।